অনেকে অনলাইন বা ইউটিউবে বলে থাকেন যে “ফেসবুক লক প্রোফাইল দেখার ট্রিক” – কিন্তু এগুলো প্রায় সবই ভুয়া (fake) এবং ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী এটি অবৈধ।
কোনো:
ব্যবহার করা আইনত এবং নীতিগতভাবে সঠিক না। এতে আপনার নিজের একাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ইন্টারনেটে অনেক ফেক টুল বা ওয়েবসাইট পাওয়া যায় যারা দাবি করে “লক প্রোফাইল আনলক করুন” — এসব সাধারণত স্ক্যাম বা ফিশিং হয়। এগুলোতে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ভাইরাস, বা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থাকে।

ফেসবুক “Locked Profile” ফিচারটি মূলত এমন একটি গোপনীয়তা (privacy) ফিচার, যা ব্যবহারকারীদের তাদের প্রোফাইলের তথ্য, ছবি, পোস্ট ইত্যাদি অপরিচিতদের কাছ থেকে আড়াল করতে সাহায্য করে।
এই ফিচারটি মূলত ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় যেখানে প্রাইভেসি নিয়ে অনেক মানুষ চিন্তিত থাকেন।
একজন ইউজার যখন প্রোফাইল লক করে, তখন:
| বিষয় | দেখা যাবে? |
|---|---|
| প্রোফাইল ছবি | ছোট সাইজে (thumbnail), জুম করা যাবে না |
| কাভার ছবি | দেখা যাবে, কিন্তু লাইক/কমেন্ট করতে পারবেন না |
| পোস্ট | শুধুমাত্র পাবলিক পোস্টই দেখা যাবে (যদি থাকে) |
| ছবি (Photos) | দেখা যাবে না |
| ফ্রেন্ড লিস্ট | দেখা যাবে না (শুধু mutual friends দেখা যাবে) |
| টাইমলাইন | একেবারে সাদা থাকবে (যদি আপনি বন্ধু না হন) |
| স্টোরি | দেখা যাবে না |
| Follow বা Add Friend | করা যাবে, কিন্তু তখনও পুরো প্রোফাইল খুলবে না |

যখন আপনি কোনো লক করা প্রোফাইলে প্রবেশ করবেন, তখন উপরের দিকে সাধারণত লেখা থাকবে:
“This profile is locked”
“Only friends can see the photos and posts on this profile.”
এছাড়া একটি ছোট তালা (
) আইকন ও দেখা যাবে প্রোফাইল ছবির নিচে।
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে আপনার একটি নির্দিষ্ট দক্ষতার (যেমন: গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, লেখা, অনুবাদ, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি) উন্নতি করতে হবে। আপনি যেই ক্ষেত্রটিতে কাজ করতে চান, সেখানকার ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করুন এবং সেটি আরও উন্নত করতে কাজ করুন।
সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আগে ভালোভাবে একটি বা একাধিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং স্কিলের মধ্যে রয়েছে—
সফল ফ্রিল্যান্সার হতে আপনার কাজের মান প্রদর্শন করতে একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করুন। এটি আপনার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করবে। পোর্টফোলিওতে আপনার সেরা কাজগুলোর নমুনা দিন এবং সেগুলির বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করুন।
একটি আকর্ষণীয় ও প্রফেশনাল প্রোফাইল তৈরি করতে হবে, যাতে ক্লায়েন্ট আপনাকে সহজেই বিশ্বাস করতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে (যেমন: Upwork, Fiverr, Freelancer, Toptal, PeoplePerHour ইত্যাদি) একাউন্ট খুলুন। এই প্ল্যাটফর্মগুলি ক্লায়েন্টদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। সেখানে আপনার স্কিল অনুযায়ী কাজ খুঁজুন এবং সাবলীলভাবে আবেদন করুন। আপনার দক্ষতা অনুযায়ী সঠিক মার্কেটপ্লেস বেছে নিতে হবে।
সফল ফ্রিল্যান্সার হতে প্রফেশনাল আচরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্লায়েন্টদের সঙ্গে স্পষ্ট যোগাযোগ, সময়মতো কাজ জমা দেওয়া, এবং কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা জরুরি।
প্রথম দিকে একাধিক ছোট কাজ নিন এবং ক্লায়েন্টের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। সময়মতো কাজ ডেলিভারির মাধ্যমে ভালো রিভিউ পাওয়ার চেষ্টা করুন। একটি ভালো রিভিউ আপনার পেশাগত জীবনের ভিত্তি শক্তিশালী করবে।
সফল ফ্রিল্যান্সার হতে অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই সম্পর্ক তৈরি করুন। সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ, ফোরাম এবং পেশাগত কমিউনিটি ব্যবহার করে আপনি নতুন ক্লায়েন্ট পেতে পারেন এবং অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
ক্লায়েন্টের চাহিদা বুঝে তাদের সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিন। তাদের সাথে স্পষ্টভাবে আলোচনা করুন, এবং তাদের ব্যাবসায়িক লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য বুঝতে চেষ্টা করুন। এতে আপনি আরও মানসম্মত এবং প্রয়োজনীয় কাজ প্রদান করতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয় অনিয়মিত হতে পারে, তাই একটি সঠিক বাজেট তৈরি করুন। অগ্রিম পেমেন্ট নেওয়া, সঠিক বিলিং এবং ট্যাক্স পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।
সফল ফ্রিল্যান্সার হতে নিজের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। আপনার কাজের স্টাইল, মান, এবং কাজের গুণগত মানের জন্য পরিচিতি লাভ করুন। সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ বা নিজস্ব ওয়েবসাইটে নিজের কাজ এবং বিশেষত্ব প্রকাশ করুন। নিজেকে একজন ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার জন্য সময়ের সাথে সাথে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। যে কাজগুলোর জন্য আপনি বর্তমানে কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন, সেগুলোর দক্ষতা বাড়িয়ে পরবর্তী সময়ে উচ্চমূল্যের কাজ পাবেন।
সফল ফ্রিল্যান্সার হতে শুধু অভিজ্ঞতাই নয়, নতুন স্কিল শিখতে থাকুন। এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করতে পারবেন এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজের সময় লচকে পড়তে পারে। নিজেকে সিডিউল করে, সময়মতো কাজ শুরু এবং শেষ করতে হবে। কাজের সময়ের মধ্যে বিরতি নেওয়া, মনোযোগ দিয়ে কাজ করা এবং কাজের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া আপনার কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে।
এই দিকগুলো অনুসরণ করলে আপনি ধীরে ধীরে সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন। মনে রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিং একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া এবং এতে মনোযোগ, পরিশ্রম এবং ধৈর্য প্রয়োজন। সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে দক্ষতা, ধৈর্য ও পরিশ্রমের প্রয়োজন। নিয়মিত শিখুন, কাজ করুন এবং ক্লায়েন্টদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করুন। ধাপে ধাপে এগোলে একদিন আপনি সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন!

স্বাধীন পেশা (Freelancing) হচ্ছে এমন একটি পেশাগত কাজ যেখানে একজন ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে নয়, বরং স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকেন। ফ্রিল্যান্সিংএ, একজন ব্যক্তি বিভিন্ন ক্লায়েন্ট বা গ্রাহকের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্প বা কাজ সম্পন্ন করেন, এবং সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের কাজ শেষ করে পেমেন্ট পান। এখানে একজন ফ্রিল্যান্সার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন বা অফিসের আওতায় কাজ করেন না; বরং স্বাধীনভাবে নিজের সময় এবং কাজের ধরন ঠিক করেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। আপনার কাজের সময়, স্থান, এবং কাজের ধরন আপনি নিজেই নির্বাচন করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি বাড়ি বসে, বা যে কোনো জায়গা থেকে কাজ করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে একজন ফ্রিল্যান্সার তার নিজস্ব ক্লায়েন্ট বা গ্রাহকের জন্য কাজ করেন। ক্লায়েন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করে এবং সেই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার পর পেমেন্ট পান। ক্লায়েন্টরা বিভিন্ন ধরণের প্রকল্পের জন্য ফ্রিল্যান্সারকে নিয়োগ করতে পারে, যেমন: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, অনুবাদ, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের ধরন খুবই বৈচিত্র্যময়। ফ্রিল্যান্সাররা যে কাজগুলো করেন তা হতে পারে:
ফ্রিল্যান্সিংয়ে পেমেন্টের কয়েকটি সাধারণ মডেল আছে:
ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজের জন্য বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যা ফ্রিল্যান্সারদের এবং ক্লায়েন্টদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে:
এই প্ল্যাটফর্মগুলো ফ্রিল্যান্সারদের তাদের দক্ষতার ভিত্তিতে কাজ পেতে এবং টাকা আদান-প্রদান করতে সাহায্য করে।
আজকের ডিজিটাল যুগে, ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রযুক্তি, কমিউনিকেশন টুলস এবং গ্লোবালাইজেশনের কারণে বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে যুবকরা এখন এই পেশায় আকৃষ্ট হচ্ছেন কারণ এটি তাদের কর্মজীবনে স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার সুযোগ দেয়।
তবে, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে হলে পরিশ্রম, সময় ব্যবস্থাপনা, সঠিক দক্ষতা এবং ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। যারা ভালো কাজ করেন এবং নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারেন, তারা আরও ভালো সুযোগ পেতে থাকেন।
ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন, নমনীয় এবং আকর্ষণীয় পেশা হতে পারে, কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, ধৈর্য, এবং সময়মত কাজ সম্পাদন করার সক্ষমতা। সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনাকে নিজের কাজের প্রতি দৃঢ় মনোভাব রাখতে হবে এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজের স্কিল আপডেট করতে হবে। সফল ফ্রিল্যান্সার, সফল ফ্রিল্যান্সার
]]>টাঙ্গুয়ার হাওরে ছোট বড় প্রায় ৪৬টির মত ভাসমান গ্রাম বা দ্বীপ গ্রাম আছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে এ হাওরকে Ecologically Critical Area (ECA) হিসেবে ঘোষণা করে। আর ২০০০ সালে এটি রামসার সাইট (Ramsar site) এর তালিকায় স্থান করে নেয়।
টাঙ্গুয়ার হাওর সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। পানি, জলাবন, নীল আকাশ, পাহাড় ও চোখ জুড়ানো সবুজ এই হাওরকে অপরুপ করেছে। হাওরের মোট আয়তন ৬৯১২ একর। তবে বর্ষাকালে এর আয়তন বেড়ে প্রায় ২০০০০ একর পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রায় ১৪০ প্রজাতির মাছ, ১২ প্রজাতির ব্যাঙ এবং ১৫০ প্রজাতির বেশি সরীসৃপের সমন্বয়ে জীববৈচিত্র্য গড়ে উঠেছে। শীতকালে এই হাওরে প্রায় ২৫০ প্রজাতির অতিথি পাখির বিচরণ ঘটে।

দেশের প্রায় সব জেলা থেকে সুনামগঞ্জে বাসে আসা যায়। সুনামগঞ্জ হয়ে এ হাওর যেতে চাইলে আপনাকে প্রথমেই সুনামগঞ্জ জেলা শহরে আসতে হবে।
প্রতিদিন ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন, শ্যামলীসহ বেশ কয়েকটি পরিবহণের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া মহাখালী থেকে ছেড়ে যায় এনা পরিবহণের বাস। এসব নন-এসি বাসে জনপ্রতি টিকেট ভাড়া ৮২০-৮৫০ টাকা। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ছয় ঘন্টা।
আর আপনি যদি সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ যেতে চান। সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে সুনামগঞ্জ যাবার লোকাল ও সিটিং বাস আছে। সিটিং বাস ভাড়া ১০০ টাকা, সুনামগঞ্জ যেতে দুই ঘন্টার মত সময় লাগবে। অথবা শাহজালাল মাজারের সামনে থেকে সুনামগঞ্জ যাবার লাইট গাড়িতে ২০০ টাকায় যাওয়া যায়।
সুনামগঞ্জ থেকে লেগুনা/সিএনজি/বাইক করে তাহিরপুরে সহজেই যাওয়া যায়। তাহিরপুরে নৌকা ঘাট থেকে সাইজ এবং সামর্থ অনুযায়ী নৌকা ভাড়া করে ঘুরে বেড়াতে পারবেন টাঙ্গুয়ার হাওর।
তবে শীতকালে পানি কমে যায় বলে আপনাকে লেগুনা/সিএনজি/বাইক যোগে যেতে হবে সোলেমানপুর। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে নিতে পারবেন।

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর মাস হাওর ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে ভালো সময়। শরতের নীল আকাশ, স্বচ্ছ পানি আর দূরের পাহাড়, সব মিলিয়ে অনেকের কাছে শরত কালের সময়টা প্রিয়। শীতের সময়টায় সাধারণত এর পানি অনেক কম থাকে। তবে তখন আপনি দেখতে পাবেন এক ভিন্ন হাওর। তবে অতিথী পাখি দেখতে চাইলে শীতকালেই যেতে হবে আপনাকে।
এখানে এলে যে শুধু হাওরই দেখবেন তা নয়। এখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে আরও বেশকিছু দর্শনীয় স্থান। ভ্রমণ প্যাকেজের সাথে ছোট-ছোট সোয়াম্প ফরেস্ট, ওয়াচ টাওয়ার, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রি লেক), শিমুল বাগান, বারিক টিলা, যাদুকাটা নদী, লাউড়ের গড়সহ আরও বেশ কিছু স্পট ঘুরে দেখা যায়।
বর্তমানে নানা ধরণের নানা মানের হাউজবোট, সেমি হাউজবোট কিংবা গতানুগতিক নৌকা পাওয়া যায় টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে দেখার জন্যে। প্যাকেজ অনুযায়ী বিভিন্ন মানের হাউজবোটের ভাড়া একেক রকম। সাধারণত এক রাত থাকা, খাবার ও হাওরসহ আশেপাশের সকল স্পট ঘুরে দেখার প্যাকেজ প্রিমিয়াম বোট গুলোর ক্ষেত্রে জনপ্রতি ৬,০০০- ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
মোটামুটি মানের সেমি হাউজবোট গুলোর প্যাকেজ ৪,৫০০- ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া পুরো হাউজবোট রিসার্ভ করলে মান ও ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী ৪০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত হাউজবোট গুলোর প্যাকেজে সবকিছুই অন্তর্ভূক্ত থাকে। তারপরেও বুকিং বা ভাড়া করার আগে তাদের প্যাকেজ দেখে নিন, প্রয়োজনে দরদাম করে নিন। শুধু ডে ট্রিপ হলে খরচ কিছুটা কম হবে। রাতের ট্রিপে তাদেও খরচ বেশি।
নৌকা ভাড়া মূলত ৩টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নৌকায় ধারণ ক্ষমতা, নৌকার সুযোগ সুবিধা, কি কি ঘুরে দেখবেন, রাতে থাকবেন নাকি ড্রে ট্রিপ এবং সিজনের উপর। সাধারণত ছোট নৌকা ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা, মাঝারি নৌকা ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা এবং বড় নৌকা ৫০০০ থেকে ১০,০০০ টাকায় সারাদিনের জন্য ভাড়া করা যায়। এক রাত নৌকায় থাকতে চাইলে টাকার পরিমাণ বাড়বে। রান্নার জন্য নৌকার মাঝিকে খরচের টাকা দিলে সে বাবুর্চি নিয়ে যাবে কিংবা নিজেই রান্নার ব্যবস্থা করে ফেলবে। কি করবেন তা অবশ্যই মাঝির সাথে আগে আলোচনা করে দরদাম ঠিক করে নিবেন।
এছাড়া খরচ কমানোর জন্যে লোকাল বডির নৌকা গুলো ভাড়া করতে পারেন। তবে কিছু বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখুন যেমন নৌকায় বাথরুম আছে কিনা, বিদ্যুত, লাইট ও ফ্যানের ব্যবস্থা আছে কিনা।

টাঙ্গুয়ার হাওর যারা ঘুরতে যান, তারা সাধারণত হাউজবোটেই রাত্রিযাপন করেন। এছাড়া আপনি চাইলে টেকেরঘাট বাজারে রাতে থাকতে পারবেন। চাইলে সুনামগঞ্জ এসে সেখানের কোন হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে হাওরে বেড়াতে গেলে অবশ্যই আপনার উচিত হাওরের নৌকায় অন্তত এক রাত থাকার। এই অভিজ্ঞতা অবশ্যই আপনার ভাল লাগবে। তারপরেও যদি আপনার হোটেল প্রয়োজন হয় এগুলো দেখতে পারেন।
সুনামগঞ্জে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকার মধ্যে থাকার জন্যে হোটেল ভাড়া পাবেন।
হাউজবোট প্যাকেজ খাবারসহ হয়ে থাকে। তা না হলে নিজেদের খাবার নিজেরা ব্যবস্থা করে নিতে হবে। দিনে দিনে ঘুরে চলে আসলে তাহিরপুরে খাবার হোটেল থেকে রওনা হবার আগে সকালের ও ফিরে আসার পর দুপুরের খাবার হাওরের প্রায় ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির মাছের মধ্যে নিজের পছন্দের মাছ দিয়ে খাবার পর্ব সেরে ফেলতে পারেন। এছাড়া খেতে পারবেন টেকেরঘাটেও।
আর যদি হাওরে রাতে থাকার পরিকল্পনা থাকে এবং নিজেরা রান্না করে খাওয়ার ইচ্ছে থাকে তবে তাহিরপুর থেকে নৌকায় ওঠার আগে যে কয়দিন অবস্থান করবেন সেই কয়দিনের বাজার করে নিতে পারেন। আর তাজা মাছ কেনার জন্য হাওরের মাঝখানের ছোট বাজারগুলোতে যেতে পারেন। এছাড়া সাথে নিতে পারেন দেশি হাঁস কিংবা শুঁটকি।
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানের সংখ্যা অনেক। তারউপরে কেউ পাহাড় পছন্দ করেন, কেউ সাগর। কারো আবার পছন্দ ঘন অরণ্য। তবে বাংলাদেশের সবথেকে দর্শনীয় ও জনপ্রিয় ১০টি স্থান নিয়ে এ প্রতিবেদন।
তবে এ তালিকার সঙ্গে কেউ একমত না হলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিতে পারেন আপনার দেখা সেরা দর্শনীয় স্থান কোনটি?

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম সেন্টমার্টিন দ্বীপ । আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল যেখানে মিলেমিশে একাকার। বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে জ্ঞান আর ভ্রমণ পিপাসুমানুষের জন্য অনুপম অবকাশ কেন্দ্র এই সেন্টমার্টিন।
সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। যা মূলভূখন্ডের সর্ব দক্ষিণে এবং কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৭ বর্গ কিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র দ্বীপকে স্থানীয় ভাষায় নারিকেল জিঞ্জিরা বলেও ডাকা হয়।
সবথেকে আনন্দের খবর, সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজ-সরল। তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। স্বল্প খরচে পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
তবে যারা দিনে গিয়ে দিনেই সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে আসবেন তারা পরবর্তীতে আফসোস করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় অন্তত একদিন সেন্টমার্টিনে অবস্থান করা। এতে যেমন পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখতে পারবেন তেমনি এই আনন্দময় ভ্রমণ আপনাকে সবসময় মোহিত করবে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি মায়াবী ও রূপময়ী সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তন করে। শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীষ্ম এমন কোনো ঋতু নেই যখন সমুদ্র সৈকতের চেহারা বদলায় না।
অনেকের মতে, কক্সবাজার বাংলাদেশের সবথেকে দর্শণীয় স্থান। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত।
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম কক্সবাজার চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্হিত। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কি.মি.। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র।
একসময় কক্সবাজার পানোয়া নামেও পরিচিত ছিল। যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে হলুদ ফুল। এর আরো একটি প্রাচীন নাম হচ্ছে পালঙ্কি।
এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট। সীমান্তপথে মিয়ানমার (পূর্ব নাম – বার্মা), থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে বার্মিজ মার্কেট।

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম স্থান সুন্দরবন। বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে সুন্দরবন বিস্তৃত।
১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ রয়েছে ভারতের মধ্যে। আর যারা প্রকৃতি পছন্দ করেন তাদের কাছে বেড়ানোর জন্য সব থেকে আদর্শ স্থান হতে পারে এই সুন্দরবন।
যেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরনের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী। সুন্দরবনে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসে।
আপনি চাইলে সড়ক ও নদীপথে সুন্দরবন যেতে পারেন। সড়ক পথে– খুলনা খেকে বাসযোগে কয়রা হয়ে সুন্দরবন যাওয়া যায়। নদী পথে– খুলনা লঞ্চঘাট খেকে লঞ্চযোগে সুন্দরবন যাওয়া যাবে। রাতে ও সকালে লঞ্চ রয়েছে।
ঢাকা থেকে সুন্দরবন যেতে চাইলে সরাসরি বাসে খুলনা যেতে হবে। এছাড়া ট্রেন ও বিমানেও খুলনা যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে খুলনার ট্রেনে উঠে খুলনা শহরে যেতে পারবেন। বিমানে যেতে হলে যশোর নামতে হবে।
যশোর থেকে বাস অথবা গাড়ী ভাড়া করে খুলনা যাওয়া যায়। খুলনা শহরে অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে। সেখানে রাতে অবস্থান করে পরের দিন সকালে সুন্দরবন যেতে হবে। এজন্য আপনাকে প্রথম যেতে হবে মংলা।
খুলনা থেকে প্রাইভেট গাড়ি অথবা বাসে মংলা যাওয়া যায়। দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। মংলা ঘাট থেকে ট্রলার কিংবা লঞ্চে যেতে হবে সুন্দরবন।
এছাড়া খুলনা স্টিমার ঘাট থেকে সকালে সরাসরি সুন্দরবন লঞ্চ ছেড়ে যায়। এগুলো বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির। তাদের কাছ থেকে আগে টিকিট কেটে রাখতে হবে।

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম স্থান কুয়াকাট সমুদ্র সৈকত। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের অবস্থান পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার লতাচাপলি ইউনিয়নে। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে একই সাথে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট কুয়াকাটাকে সকল সমুদ্র সৈকত থেকে অনন্য করেছে। পরিচ্ছন্ন বেলাভূমি, অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত, দিগন্তজোড়া সুনীল আকাশ এবং ম্যানগ্রুভ বন কুয়াকাটাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত।
কুয়াকাটায় শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, এখানে দেখার মতো আছে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান। পূর্ব ও পশ্চিমের ঝাউবন, তিন নদীর মোহনা, লেবুর চর, গঙ্গামতির জঙ্গল, লাল কাকড়া দ্বীপও সবুজ অরণ্য উপভোগের সাথে সাথে পাবেন সুন্দরবনের একাংশ দেখার সুযোগ। কিংবা কুয়াকাটার ঐতিহাসিক কুয়া, বৌদ্ধমন্দির কিংবা দুর্গম চর বিজয় অভিযানের জন্যেও কুয়াকাটা বেড়াতে যেতে পারেন।
নদী ও সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা অনেক কম সময়ে এবং সহজে যাওয়া যায়।
কক্সবাজারের মত এত আবাসিক হোটেল রিসোর্ট না থাকলেও কুয়াকাটায় আপনার বাজেট অনুযায়ী হোটেল/রিসোর্ট পেয়ে যাবেন। মোটামুটি বাজেটের হোটেলে থাকতে আপনার খরচ হবে ২০০০-৩০০০ টাকা। কম বাজেটে থাকার জন্যে দুইজনের জন্য রুম পেয়ে যাবেন ১০০০ – ২০০০ টাকায়। বাজেট যদি আপনার সমস্যা না হয় তাহলে চলে যেতে পারেন শিকদার রিসোর্ট এর মত অভিজাত রিসোর্টে।
কুয়াকাটায় বেশিরভাগ হোটেলেই নিজস্ব রেস্টুরেন্টে তাদের অতিথিদের খাবারের জন্য ব্যবস্থা করে। এছাড়া এখানকার স্থানীয় রেস্টুরেন্টেও বিভিন্ন রকম দেশীয় খাবার পাওয়া যায়। কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের আশেপাশেই অনেক খাবার হোটেল পেয়ে যাবেন।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নামার আগে সেই জায়গাটি নিরাপদ কিনা তা অবশ্যই জেনে সমুদ্রে নামবেন। নির্ধারিত জায়গা ছাড়া সমুদ্রে নামবেন না। খাওয়া দাওয়া কিংবা বাইক ভাড়া, যে কোন কিছুতে দরদাম ঠিক করে নিন। যে কোন প্রয়োজনে কুয়াকাটায় টুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিন।

বর্তমান সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য সাজেক ভ্যালি। চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি, সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম স্থান এই সাজেক ভ্যালি।
সাজেক থেকে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে পাবেন। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ জায়গা।
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট। সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ।
খাগড়াছড়ি জেলা থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার আর দীঘিনালা থেকে ৪০ কিলোমিটার।
আপনি চাইলে রাঙামাটি বা খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক ভ্যালি যেতে পারেন। তবে খাগড়াছড়ি দিয়ে যাওয়া আপনার জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
ঢাকা থেকে বিআরটিসি, সেন্টমার্টিন, শ্যামলি, হানিফ পরিবহনসহ বেশকিছু এসি ও নন এসি বাস খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এতে করে ভাড়া পড়তে পারে ৫২০ থেকে ৭০০ টাকার মতো।
এতে করে আপনার সময় লাগবে সাড়ে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা। বাসগুলো সাধারণত রাত ১০ টার মধ্যে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
রাঙামাটি হয়ে সাজেক ভ্যালি যেতে আপনাকে প্রথম ঢাকা থেকে রাঙামাটি যেতে হবে। শ্যামলী, সেন্টমার্টিন, হানিফ, ইউনিক, এস আলমসহ বেশকিছু বাস প্রতিদিন এ রুটে চলাচল করে।
এসব নন এসি বাসের ভাড়া ৬২০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৯০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। দীর্ঘ এই এলাকা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
চিরসবুজ এই বন গোয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত। বর্ষাকালে এই বন ২০–৩০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি সারা বছর, পানির উচ্চতা ১০ ফুটের মতো থাকে।
রাতারগুল যেতে প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে যেতে হবে সিলেটে। গাবতলী, ফকিরাপুল এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সিলেটগামী বাসগুলো ছেড়ে যায়৷ গ্রীন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলি, এনা প্রভৃতি পরিবহনের এসি বাসের জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। আর নন-এসি বাসের জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ৪৭০ থেকে ৬০০ টাকা।
আপনি চাইলে ট্রেনে করেও সিলেটে যেতে পারেন। কমলাপুর কিংবা বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশন হতে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত অথবা কালনী এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এছাড়া বাজেট ভালো থাকলে ফ্লাইটেও খুবই কম সময়ে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে পারেন। তার জন্য আপনার সময় কমে গেলেও খরচ বেড়ে যাবে।

বান্দরবান হতে ৭৯ কিঃমিঃ দুরে অবস্থিত থানচি। সাঙ্গু নদীর পাড়ে অবস্থিত থানচি বাজার। এই সাঙ্গু নদী ধরে রেমাক্রীর দিকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে হয় নৌকা বেঁয়ে।
নদীর কিছুদূর পর পর ১-২ ফুট এমন কি কোথাও কোথাও ৪/৫ ফুট পর্যন্ত ঢালু হয়ে নিচে নেমেছে। নদীর দুপাশে পাবেন সবুজে মোড়ানো উচু উচু পাহাড়। কোন কোন পাহাড় এতই উচু যে তার চূড়া ঢেকে থাকে মেঘের আস্তরে।
আর এই পুরোটা পথই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে অপরুপ সৌন্দর্য্য। যা আপনাকে সতেজ রাখবে বহুদিন।
এটি বাংলাদেশের আমিয়াখুম জলপ্রপাত এর পরই দ্বিতীয় বড় জলপ্রপাত হিসেবে ধরা হয়। অনিন্দ্য সুন্দর এই জলপ্রপাতটি রেমাক্রি থেকে মাত্র আড়াই ঘন্টা হাঁটার পথ দূরত্বে অবস্থিত।
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম নাফাখুম ঝর্ণা যেতে আপনাকে প্রথম যেতে হবে বান্দরবান। এরপর বান্দরবান থেকে থানচি, থানচি থেকে নৌকায় সাঙ্গু নদী ধরে রেমাক্রি বাজার যেতে হবে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে যেতে হবে স্বপ্নের নাফাখুম।
মনে রাখবেন বিকেল ৩ টার পর থানচি থেকে রেমাক্রি যাবার অনুমতি দেওয়া হয় না। তাই আপনাকে অবশ্যই ২টার মধ্যে থানচি থাকতে হবে। তা না হলে পরদিন সকালে রেমাক্রি যেতে হবে।
থানচিতে গেলে আপনি বিজিবি নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত অবকাশ কেন্দ্রে থাকতে পারবেন। রুম ভাড়া ১৫০০-৩০০০ টাকা এর মধ্যে।
থানচি বাজারে মোটামুটি মানের কিছু খাওয়ার হোটেল আছে। পছন্দ অনুযায়ী যে কোন একটায় খেয়ে নিতে পারবেন।

নোয়াখালী জেলার দক্ষিণে হাতিয়া উপজেলার সর্বদক্ষিণে নিঝুম দ্বীপের অবস্থান। ১৯৪০ এর দশকে এই দ্বীপটি বঙ্গোপসাগর হতে জেগে উঠা শুরু করে। মাছ ধরতে গিয়ে হাতিয়ার জেলেরা নিঝুম দ্বীপ আবিস্কার করে।
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম নিঝুম দ্বীপকে অনেকে ইছামতির দ্বীপ, বাইল্যার চর বা চর ওসমান বলেও ডাকেন। তবে যে নামই হোক না কেন হরিণ এবং মহিষ ছাড়া অন্য কোনো হিংস্র প্রাণী এখানে নেই।
নিঝুম দ্বীপ যাবেন আর হরিন দেখবেন না? হরিন দেখতে বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কবিরাজের চরের কাছে চৌধুরীর খাল দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটতে হবে। সেখানে হরিণের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতকাল অর্থাৎ অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়। বছরের অন্য সময় মেঘনা নদী ও সাগর বেশ উত্তাল থাকে তাই ওই সময় নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণে সতর্ক থাকা উচিত।
নিঝুম দ্বীপ যেতে চাইলে আপনাকে প্রথমে ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে করে নোয়াখালী যেতে হবে। নোয়াখালী মাইজদী হতে প্রথমে সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড যেতে হবে।
সেখান থেকে চেয়ারম্যান ঘাট গামী যেকোন লোকাল বাস সার্ভিস/ সিএনজি অটোরিক্সা যোগে চেয়ারম্যান ঘাটে নামতে হবে। এরপর সীট্রাক/লঞ্চ সার্ভিসে নলচিরা ঘাটে নেমে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে জাহাজমারা ঘাটে যেতে হবে।
সেখানে গিয়ে নৌকাযোগে জাহাজমারা চ্যানেল পার হয়ে নিঝুম দ্বীপ পৌঁছা যাবে।

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। প্রায় ১২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি। স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত।
অথৈ পানি, জলাবন, নীল আকাশ, পাহাড় ও চোখ জুড়ানো সবুজ এই হাওরকে অপরুপ সাজে সাজিয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের মোট আয়তন ৬৯১২ একর। তবে বর্ষাকালে এই হাওরের আয়তন বেড়ে প্রায় ২০,০০০ একর পর্যন্ত হয়ে থাকে। টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ১৪০ প্রজাতির মাছ, ১২ প্রজাতির ব্যাঙ এবং ১৫০ প্রজাতির বেশি সরীসৃপের সমন্বয়ে জীববৈচিত্র্য গড়ে উঠেছে।
টাঙ্গুয়ার হাওর বর্তমানে পর্যটকদের একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন শত শত পর্যটক শতাধিক নৌকা নিয়ে হাওরজুড়ে ভেসে বেড়ান। অনেকে নৌকা নিয়ে হাওরেই রাতযাপন করেন। এটি একদিকে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা তৈরি করলেও এটিকে হাওরে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন অনেকে। নানা রকম দেশি ও পরিযায়ী পাখি দেখতে শীত মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে যান পাখিপ্রেমীরা।
শীতকালে এই হাওরে প্রায় ২৫০ প্রজাতির অতিথি পাখির বিচরণ ঘটে। পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে বিরল প্রজাতির প্যালাসেস ঈগল, বড় আকারের গ্রে কিংস্টর্ক রয়েছে এই হাওরে। স্থানীয় জাতের মধ্যে আছে শকুন, পানকৌড়ি, বেগুনি কালেম, ডাহুক, বালিহাঁস, গাঙচিল, বক, সারস, কাক, শঙ্খ চিল, পাতি কুট।
টাঙ্গুয়ার হাওড় থেকে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় গুলো দেখা যায়। মেঘালয় থেকে প্রায় ৩০টি ছোট বড় ঝর্ণা বা ছড়া টাঙ্গুয়ার হাওরে এসে মিশেছে। এই হাওরে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। পানি খুবই স্বচ্ছ হওয়ায় উপর থেকে হাওরের তলা দেখা যায়। টাঙ্গুয়ার হাওরে ছোট বড় প্রায় ৪৬ টি দ্বীপের মত ভাসমান গ্রাম বা দ্বীপ গ্রাম আছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে হিজল, করচ, বরুণ, পানিফল, হেলেঞ্চা, বনতুলসী, নলখাগড়া, বল্লুয়া, চাল্লিয়া, সিংড়া, শালুক, শাপলা, গুইজ্জাকাঁটা, উকল ইত্যাদি।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে এগিয়ে গেলেই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে প্রবেশ দ্বার দেখতে পাবেন।
প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক ছোট ছোট টিলা ও শালবন সমৃদ্ধ। থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে তৈরি সাফারী পার্কটি ২০১৩ সালে চালু করা হয়। এই সাফারি পার্কের অন্যতম আকর্ষণ কোর সাফারি। চারপাশে উন্মুক্ত বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, বন্য হরিণ ও অন্যান্য প্রাণী হেঁটে বেড়াচ্ছে আর তার মাঝ দিয়ে আপনি মিনিবাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
হয়তো হঠাৎ সামনে থেকে এক বাঘ রাস্তা আটকিয়ে দিলো কিংবা জানালার পাশে এসে সিংহ গর্জন দিয়ে উঠলো। এমন অভিজ্ঞতা পেতে ঢাকা ও আশপাশ থেকে সারাদিন পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়াবার জন্যে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক হতে পারে আদর্শ ঘুরে বেড়াবার জায়গা।
পুরো বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, কোর সাফারি পার্ক, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক, সাফারি কিংডম, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক নামক ৫ টি অংশে বিভক্ত।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে প্রবেশ টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা। তবে ১৮ বছরের নিচে ছেলেমেয়েরা ২০ টাকায় পার্কে প্রবেশ করতে পারে। আর সাধারণ অথবা শিক্ষা সফরে আসা ছাত্রছাত্রীদের পার্কে প্রবেশ করতে ১০ টাকা দিতে হয়। বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য পার্কে প্রবেশ মূল্য ১০০০ টাকা।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা সফরে আগতদের জন্যে স্পেশাল প্রবেশ ফি রয়েছে। যদি শিক্ষা সফরে আসা শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ৪০-১০০ জন হয় তাহলে সবার প্রবেশ করতে ৪০০ টাকা লাগবে। যদি শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০০ এর বেশি হয় তাহলে প্রবেশ করতে ৮০০ টাকা লাগবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক বন্ধ থাকে। পুরোটা ঘুরে দেখতে চাইলে সারাদিন চলে যাবে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় যদি সকাল সকাল চলে যান। তাহলে আরামে সারাদিন ঘুরে ঘুরে সব অংশ দেখতে পারবেন।
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান নিয়ে আপনার যদি আরও আগ্রহ থাকে তাহলে আপনি আমাদের সঙ্গেই থাকুন। আমরা প্রতিনিয়ত এ ব্যাপারে তথ্য প্রকাশ করে যাচ্ছি। ধন্যবাদ। বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান, বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড, ঘুরতে যাওয়ার স্থান বাংলাদেশ, পরিবার নিয়ে ঘোরার স্থান, ছুটিতে কোথায় যাবো, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
]]>সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। যা মূলভূখন্ডের সর্ব দক্ষিণে এবং কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৭ বর্গ কিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র দ্বীপকে স্থানীয় ভাষায় নারিকেল জিঞ্জিরা বলেও ডাকা হয়।
সবথেকে আনন্দের খবর, এই দ্বীপের মানুষ নিতান্ত সহজ-সরল। তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। স্বল্প খরচে পর্যটকদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
তবে যারা দিনে গিয়ে দিনেই সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে আসবেন তারা পরবর্তীতে আফসোস করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় অন্তত একদিন সেন্টমার্টিনে অবস্থান করা। এতে যেমন পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখতে পারবেন তেমনি এই আনন্দময় ভ্রমণ আপনাকে সবসময় মোহিত করবে। তবে সেন্টমার্টিন ট্যুর ও সেখানে রাত্রিযাপন নিয়ে সরকার সম্প্রতি কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করেছ। সেন্টমার্টিন ট্যুর চূড়ান্ত করার আগে এ ব্যাপারে ভালো করে জেনে নিন।
নারিকেল, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ধান এই দ্বীপের প্রধান কৃষিজাত পণ্য। আর অধিবাসীদের প্রায় সবারই পেশা মৎস্য শিকার। তবে ইদানীং পর্যটন শিল্পেরবিকাশের কারণে অনেকেই রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল কিংবা গ্রোসারি শপেরমাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে।

আসুন এবার জেনে নিই কিভাবে আপনি এই দ্বীপে পৌছাবেন।
প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার বা টেকনাফের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার বেশ কিছু গাড়ি। ঢাকা থেকে প্রতিদিনই গ্রীন লাইন, সোহাগ, টিআর ট্রাভেলস, শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, ঈগল, এস আলম, সিল্ক লাইন, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি অনেক বাস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এসব বাসের ভাড়া হতে পারে ৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে।
এছাড়া আপনি যদি সরাসরি ঢাকা থেকে টেকনাফ যেতে চান সে ব্যবস্থাও আছে আপনার জন্য। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে শ্যামলী, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ঈগল, এস আলম, মডার্ন লাইন, গ্রীন লাইন ইত্যাদি বাস সরাসরি টেকনাফ যায়। এতে করে আপনার সময় লঅগবে ১০-১২ ঘন্টার মতো। ভাড়া হবে সাধারণত ৯০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে।
আপনি যদি কক্সবাজার পর্যন্ত যান তারপর তারপর টেকনাফ পর্যন্ত বাসে ভাড়া পড়বে ১৪০ টাকা। অথবা রিজার্ভ মাইক্রোবাসে টেকনাফ যেতে পারেন। প্রতিদিন সকাল থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল করে এসব গাড়ি।
টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন সকাল থেকে আসা-যাওয়া করে কুতুবদিয়া, কেয়ারী সিন্দাবাদ, ঈগল, সুন্দরবন নামের বেশকিছু সি-ট্রাক। চমৎকার এসব জাহাজের পাশাপাশি ট্রলার ও চলাচল করে এই সমুদ্র রুটে।
জাহাজের শ্রেনীভেদে আপ-ডাউন ভাড়া ৫৫০-৮০০ টাকার মত। জাহাজগুলো প্রতিদিন সকাল ৯.০০-৯.৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং সেন্টমার্টিন থেকে ফেরত আসে বিকাল ৩.০০-৩.৩০ মিনিটে।
তাই সময়ের আগে জেটি ঘাটে উপস্থিত না হতে পারলে জাহাজ মিস হবার সম্ভাবনা আছে। আর এমন ক্ষেত্রে ট্রলারে করে ফেরা ছাড়া উপায় নেই যা বিপদজনক। যারা সেন্টমার্টিনে রাত্রি যাপন করেন তাঁরা পরের দিন একই জাহাজে ফেরার সুযোগ পান। তবে সেটা আগে টিকিট করার সময় বলে নিতে হয়।
যে কথাটা অবশ্যই মনে রাখবেন তা হলো- শীত মৌসুমে সমুদ্র শান্ত থাকে। তাই বেড়ানোর জন্য এ সময়টাই বেছে নিন। গ্রীষ্ম-বর্ষা মৌসুমে সমুদ্র উত্তাল থাকে। এ মৌসুমে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

যদি আপনি জীবনে একটিবারও সেন্টমার্টিন যান! এবং সেখানে একটি জিনিসই খেতে চান! তাহলে অবশ্যই সেটা হবে ডাব। এখানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ জিনিস হল ডাব যা একাধারে মিষ্টি ও সুস্বাদু।
আর যারা মাছ খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য কোরাল, সুন্দরী পোয়া, ইলিশ, রূপচাঁদা, লবস্টার, কালাচাঁদা ইত্যাদি নানান ধরনের ও স্বাদের খাবার অপেক্ষা করছে।
আর যদি সুযোগ হয় তবে দেশী মুরগী খেতে পারেন। সেখানে দেশী মুরগীকে কুরা বলা হয়। এখানে আরো রয়েছে অফুরন্ত লইট্টা, ছুড়ি, রূপচাঁদা, কাচকিসহ অনেক শুঁটকি মাছের ভান্ডার। জানুয়ারী বা ফেব্রুয়ারীতে সেন্টমার্টিন গেলে স্থানীয় তরমুজ পাওয়া যায়।

রাতে থাকার জন্য সেন্টমার্টিনে উন্নতমানের বেশ কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। এছাড়াও অনেক বাড়িতে পর্যটকদের জন্য থাকার সুব্যবস্থা আছে। আর হুমায়ূন আহমেদের সমুদ্র বিলাসও এখানে অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।
এখানকার জনপ্রিয় হোটেল ও কটেজের মধ্যে রয়েছে সমুদ্র বিলাস, সীমানা পেরিয়ে, প্রিন্স হেভেন, ব্ল–মেরিন রিসোর্ট, ড্রিম নাইট রিসোর্ট, প্রাসাদ প্যারাডাইস, কোরাল ভিউ, কোরল ব্লু, মারমেইড, সি প্রবাল, নীল দিগন্ত, সায়রী, সি ইন, হোটেল সাগর পাড়, রিয়াদ গেস্ট হাউজ, হোটেল স্বপ্ন প্রবাল, শ্রাবণ বিলাস, ব্লু ল্যাগুণ, সানসেট ভিউ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মেরিন পার্ক ইত্যাদি।
এসব হোটেল বা কটেজে থাকতে হলে প্রতি রাতের জন্য আপনাকে গুনতে হবে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে পর্যটন মৌসুমে এখানকার প্রায় প্রতি বাড়িতে সরাসরি আলাপ করে আবাসিক থাকার সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে এসব রুমের ভাড়ার তারতম্য হয়। সাধারণত ২০০-২৫০ টাকা হলে মোটামুটি ভাল রুম নেয়া যায়। আসুন এবার একনজরে কিছু হোটেল ভাড়া জেনে নিই।
| হোটেলের নাম | সম্ভাব্য রুম ভাড়া | মোবাইল নাম্বার |
|---|---|---|
| ব্লু মেরিন রিসোর্ট | ১০০০ টাকা – ১৫০০০ টাকা | ০১৮১৭ – ০৬০০৬৫ |
| কোরাল ভিউ রিসোর্ট | ২৫০০ টাকা – ৬০০০ টাকা | ০১৯৮০ – ০০৪৭৭৭, ০১৯৮০ – ০০৪৭৭৮ |
| প্রাসাদ প্যারাডাইস | ২০০০ টাকা – ৫০০০ টাকা | ০১৯৯৫ – ৫৩৯২৪৮, ০১৮৮৩ – ৬২৬০০৩ |
| নীল দিগন্তে | ১৫০০ টাকা – ৫০০০ টাকা | ০১৭৩০-০৫১০০৪ |
| প্রিন্স হেভেন | ১৫০০ টাকা – ৩৫০০ টাকা | ০১৯৯৫ – ৫৩৯২৪৬, ০১৮৮৩ – ৬২৬০০২ |
| লাবিবা বিলাস রিসোর্ট | ৩৫০০ টাকা – ১২০০০ টাকা | ০১৭০০ – ৯৬৯২১২, ০১৮৩৪ – ২৬৭৯২২ |
| ড্রিম নাইট রিসোর্ট | ১৫০০ টাকা – ৩৫০০ টাকা | ০১৮২৫ – ৬৫৬৩২৬, ০১৭৩০ – ২৩৫০০২ |
| সায়রী ইকো রিসোর্ট | ১৫০০ টাকা – ৩০০০ টাকা | ০১৬১০ – ৫৫৫৫০০ |
| সীমানা পেরিয়ে | ৭০০ টাকা – ৮০০ টাকা (জন প্রতি) | |
| সমুদ্রবিলাস | ৫০০ টাকা – ১০০০ টাকা (জন প্রতি) |
অনেকের মতে, কক্সবাজার বাংলাদেশের সবথেকে দর্শণীয় স্থান। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত।
কক্সবাজার চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্হিত। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কি.মি.। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র।
একসময় এটি পানোয়া নামেও পরিচিত ছিল। যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে হলুদ ফুল। এর আরো একটি প্রাচীন নাম হচ্ছে পালঙ্কি।
এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট। সীমান্তপথে মিয়ানমার (পূর্ব নাম – বার্মা), থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে বার্মিজ মার্কেট।

বিমান বা সড়ক পথে আপনি সহজেই কক্সবাজার পৌছতে পারবেন। আর চাইলে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আপনি ট্রেনেও চট্টগ্রাম যেতে পারবেন। সেখান থেকে বাসে করে পৌছাতে পারবেন এ সমুদ্র সৈকতে।
বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউ-এসবাংলার বেশকিছু বিমান প্রতিদিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্য চলাচল করে। আপনি চাইলে মাত্র ১ ঘন্টায় এসব ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে সেখানে পৌছতে পারেন। এসব বিমানের ভাড়া ৩৫০০ টাকা থেকে ১১০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে মাঝে মধ্যেই এসব বিমান কোম্পানি বড় বড় অফার দেয়। তখন ভাড়া অনেকটাই কমে যায়।
আর আপনি যদি বাসে করে ঢাকা থেকে এ সমুদ্র সৈকতে পৌছতে চান তাহলে আপনার জন্য আছে অনেক উপায়। ঢাকা থেকে প্রতিদিনই গ্রীন লাইন, সোহাগ, টিআর ট্রাভেলস, শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, ঈগল, এস আলম, সিল্ক লাইন, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি অনেক বাস কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
বাসের ভাড়া হতে পারে ৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে।

সেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। তবে এর বাইরেও আরও কিছু দর্শণীয় স্থান আপনাকে শিহরিত করবে। কক্সবাজার গেলে অবশ্যই এসব জায়গা একবার দেখে আসবেন।
কলাতলী বিচ কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র। সমুদ্র সৈকতের খুব কাছেই এই সৈকত। যেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে প্রকৃতির আরেক অপরুপ দৃশ্য।
বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন মানুষ এখানে ভ্রমণ করতে আসেন। সমুদ্রে গোসল করতে আসেন।
কলাতলী বিচে রয়েছে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্টসহ আরো অনেক পর্যটন সুবিধা। বিশেষ করে চাঁদনি রাতে বিচে হাঁটা সত্যিই রোমঞ্চকর। সকাল এবং সন্ধ্যায় এখানে বিভিন্ন ধরনের শুকনো মাছ ও খাবার পাওয়া যায়।
সমুদ্রের আসল রুপ দেখতে চান? তাহলে লাবনী বিচে যান! এটি পুরাতন সি-বিচ নামেও অনেকের কাছে পরিচিত।
শহরের খুব কাছে হওয়ার কারণে লাবণী বিচকে প্রধান সমুদ্র সৈকত বলেও মনে করা হয়। বাসে করে কলাতলী সি-বিচ রোডে নেমে রিকশা অথবা পায়ে হেটেই যেতে পারবেন এই সমুদ্র সৈকতে।
সৈকত সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ছোট বড় অনেক দোকান। এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট। সীমান্তপথে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মার্কেট।
কক্সবাজার যাবেন আর হিমছড়ি ঘুরে আসবেন না! হ্যা, প্রধান সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র।
এখানকার সমুদ্র সৈকতটি নির্জন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এর সৌন্দর্যও কোনো অংশে কম নয়।
হিমছড়ি যত না সুন্দর তার চাইতে সুন্দর ও রোমাঞ্চকর হল এ সৈকতে যাওয়ার পথটি। একপাশে বিস্তৃর্ণ সমুদ্রের বালুকা বেলা আর এক পাশে সবুজ পাহাড়ের সাড়ি। মাঝে পিচ ঢালা মেরিন ড্র্রাইভ।
এমন দৃশ্য সম্ভবত দেশের আর কোথাও পাওয়া যাবে না। পাহাড়ে উঠলে চোখের সামনে ভাসবে নীল দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া বিশাল সমুদ্র।
সমুদ্রের নতুন আরেক রুপ দেখতে চাইলে ঘুরে আসুন ইনানী বিচ। হিমছড়ি থেকে আরো ০৫ কিলোমিটার গেলেই এই সমুদ্র সৈকত।
ইনানী বীচে প্রবাল পাথরের ছড়াছড়ি। অনেকটা সেন্টমার্টিনের মতই। এ সৈকতের প্রধান আকর্ষণ প্রবাল পাথর। প্রায় প্রতিটা পাথরই নানা আকার আর ধরণের।
অনেকটাই শান্ত প্রকৃতির সৈকত এই ইনানী। জোয়ারের সময় এলে প্রবাল পাথরের দেখা পাওয়া যাবে না। ভাটার সময়েই কেবল মাত্র বিশাল এলাকা জুড়ে ভেসে উঠে এই পাথর।
প্রবাল পাথরে লেগে থাকে ধারালো শামুক-ঝিনুক। তাই এখানে বেশী লাফালাফি করা বিপদজনক।
কক্সবাজারের বিপরীতে উপকূলীয় ছোট একটি দ্বীপ সোনাদিয়া। এটি পরিযায়ী পাখিদের স্বর্গ। তাই অবশ্যই এই দ্বীপটি ঘুরে আসবেন।
দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কি.মি.। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত।
একটি খাল দ্বারা এটি মহেশখালী দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মনোরম এ দ্বীপের পশ্চিমাংশে বালুকাময় ও ঝিনুকের জন্য বিখ্যাত।
মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ। মহেশখালীতে রয়েছে হিন্দুদের তীর্থস্থান বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ মন্দির সারা বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র স্থান।
প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো এ প্রাচীন সভ্যতা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। নেপালের রাজদরবারের বদান্যতায় ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় এটি নতুন রূপ ধারণ করেছে।
শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগরের মাঝে অবস্থিত এই মহেশখালী।
এছাড়াও সময় পেলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন রামু উপজেলা। যার পুরোটাই আপনার চোখ জুড়িয়ে দেবে। কক্সবাজারের আরেক দর্শণীয় স্থান ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটিও আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

কক্সবাজারে গেলে থাকার কোন চিন্তা নেই। ছোট বড় অসংখ্য হোটেল ও মোটেল সেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। এসব হোটেলে আপনি যেমন ২০০ টাকা দিয়েও রাত পার করতে পারবেন। আবার ফাইভ ষ্টার হোটেলে গিয়েও বিন্দাস মজা করতে পারবেন। বাজেট বুঝে সিদ্ধান্ত আপনার।
হোটেল মোটেল লিষ্ট ও ভাড়ার তালিকা জানতে এখানে ক্লিক করুন।
তবে পিক সিজনে কক্সবাজারে গেলে হোটেল রুম আগে থেকে ভাড়া করে যেতে হবে। কারণ তখন পর্যটক বেশি থাকায় যখন তখন হোটেল পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, যা বিশ্বের দীর্ঘতম অক্ষত বালুকাময় সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত, বাংলাদেশে অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। এখানে সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো:
আপনি কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে এর আশপাশের সৌন্দর্যপূর্ণ স্থানগুলোও দেখতে ভুলবেন না!
]]>হ্যা! এমন অনেক সময় আসে যখন কিছু কথা গোপন রাখার প্রয়োজন হয়। হোয়াটসঅ্যাপ এবার চ্যাট গোপন রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
কারণ প্রিয়জনদের সাথে গোপন কথা বা গোপন তথ্যের আদান প্রদান অনেকেই ফাঁস হতে দিতে চান না। তাঁদের জন্য এই অপশন নিয়ে এসেছে হোয়াটসঅ্যাপ। খুব সহজেই আপনি নিজের তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে লুকিয়ে রাখতে পারবেন। কোনও কিছু ডিলিট না করেই এই তথ্য লুকিয়ে রাখা যায়।

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট লুকিয়ে রাখতে চাইলে আপনি Archive (আর্কাইভ) ফিচারটি ব্যবহার করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো—
চাপুন।এতে চ্যাটটি আর্কাইভ ফোল্ডারে চলে যাবে এবং আর প্রধান চ্যাট লিস্টে দেখাবে না।
এভাবে সহজেই আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট লুকিয়ে রাখতে পারেন!
]]>উপার্জন বা দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে কার্ডটি ব্যবহার করা যাবে। এ কার্ডে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ব্যাংকিং বা ভিসার আবেদন, বাসা বা অফিস ভাড়া এমনকি বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তির মতো বিষয়গুলো সহজ করে দেবে।

ফ্রিল্যান্সার আইডিকার্ড প্রদানের জন্য একটা ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। যা থেকে ফ্রিল্যান্সাররা নিবন্ধন সম্পন্ন করে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক পরিচিতি তৈরির পাশাপাশি ব্যাংকঋণ পাবেন এবং তাঁদের ক্ষমতায়নে সহযোগিতা হবে। আইডিকার্ড পেতে নিবন্ধন করতে হবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পেতে নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
নোট: প্রতি ১২ মাসে একবার তথ্য হালনাগাদ করতে হবে এবং হালনাগাদ ফি হিসেবে ১,৫০০ টাকা প্রদান করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং হলো স্বাধীনভাবে কাজ করার একটি পদ্ধতি যেখানে ব্যক্তি বা পেশাদাররা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী না হয়ে প্রকল্প বা চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন। সাধারণত, ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সরাসরি ক্লায়েন্টের মাধ্যমে কাজ পেয়ে থাকেন এবং কাজ শেষে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন।

ফ্রিল্যান্সিং নতুনদের জন্য শিখতে ধৈর্য ও পরিশ্রম প্রয়োজন, তবে সঠিকভাবে কাজ করলে এটি হতে পারে একটি লাভজনক ক্যারিয়ার।
]]>বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে এ বন বিস্তৃত।
১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ রয়েছে ভারতের মধ্যে। আর যারা প্রকৃতি পছন্দ করেন তাদের কাছে বেড়ানোর জন্য সব থেকে আদর্শ স্থান হতে পারে এই সুন্দরবন।
যেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরনের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী। সুন্দরবনে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসে।

আপনি চাইলে সড়ক ও নদীপথে সুন্দরবন যেতে পারেন। সড়ক পথে– খুলনা খেকে বাসযোগে কয়রা হয়ে সুন্দরবন যাওয়া যায়। নদী পথে– খুলনা লঞ্চঘাট খেকে লঞ্চযোগে সুন্দরবন যাওয়া যাবে। রাতে ও সকালে লঞ্চ রয়েছে।
ঢাকা থেকে সুন্দরবন যেতে চাইলে সরাসরি বাসে খুলনা যেতে হবে। এছাড়া ট্রেন ও বিমানেও খুলনা যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর থেকে খুলনার ট্রেনে উঠে খুলনা শহরে যেতে পারবেন। বিমানে যেতে হলে যশোর নামতে হবে।
যশোর থেকে বাস অথবা গাড়ী ভাড়া করে খুলনা যাওয়া যায়। খুলনা শহরে অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে। সেখানে রাতে অবস্থান করে পরের দিন সকালে সুন্দরবন যেতে হবে। এজন্য আপনাকে প্রথম যেতে হবে মংলা।
খুলনা থেকে প্রাইভেট গাড়ি অথবা বাসে মংলা যাওয়া যায়। দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। মংলা ঘাট থেকে ট্রলার কিংবা লঞ্চে যেতে হবে সুন্দরবন।
মংলা ঘাট থেকে করমজল যেতে সময় লাগে দুই ঘন্টা। সকালে খুলনা থেকে মংলা হয়ে বন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে আবার খুলনা ফিরে আসা যায়।
এছাড়া খুলনা স্টিমার ঘাট থেকে সকালে সরাসরি সুন্দরবন লঞ্চ ছেড়ে যায়। এগুলো বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির। তাদের কাছ থেকে আগে টিকিট কেটে রাখতে হবে।

সুন্দরবনের পুরোটাই বন ও জঙ্গলে ঘেরা। এখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী আছে।
যার মধ্যে আছে ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিশ্ব বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
প্রধান সরীসৃপ জাতিগুলোর মধ্যে আছে নোনা পানির কুমির, অজগর, গোখরা, গুইসাপ, সামুদ্রিক সাপ, গিরগিটি, কচ্ছপ এবং অন্যান্য। প্রায় ৩০ প্রজাতির সাপ পাওয়া যায়।
পশুর নদী থেকেই মূলত শুরু হবে যাত্রা, নৌকায় ওঠার পরপরই চোখের সামনে ফুটে উঠবে গাছের সারি। তরতর করে নৌকা এগোবে পশ্চিম দিকে, নৌকার ছাদে বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।
নৌকা ৪০ মিনিট চলার পর সোজা এসে থামবে করমজলের ঘাটে। করমজল মূলত হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র। করমজলে নেমেই বনে ঢোকার টিকিট কাটতে হবে, জনপ্রতি ২৩ টাকা।
এখানে গেলে আপনাকে মূলত বিভিন্ন ট্যুর কোম্পানির প্যাকেজের আওতায় যেতে হবে। তাই আপনার খরচ কতো হবে তা আপনি আগেই নিশ্চিত হয়ে যেতে পারবেন।
কারণ মংলা থেকে জাহাজে ওঠার পর থেকে তিনদিনের টুর শেষে আবার ঘাটে ফেরা পর্যন্ত লঞ্চভাড়া, ফুয়েল, খাবার, নাস্তা, প্রত্যেকের সরকারী পাশ, রেভিনিউ, গাইড, গানম্যান, বনে ঘুরার ছোট নৌকা সহ অন্যান্য সব খরচ ওই প্যাকেজের মধ্যে থাকে।
এখানে খুলনা বা মংলা থেকে সম্ভাব্য খরচ উল্লেখ করা হল।

এটি একটি অনন্য পরিবেশ ব্যবস্থা এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিস্তৃত, এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। এটি মূলত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতল হরিণ, কুমির এবং অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজাতির আবাসস্থল।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ অংশটি এবং ১৯৮৭ সালে ভারতের অংশটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
এটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল, যা মানুষের জীবনধারণ ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আমাদের সবার দায়িত্ব।
]]>বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট হলো একটি আধুনিক এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাসপোর্ট যা ইলেকট্রনিক চিপ যুক্ত। এটি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ভ্রমণ নথি হিসেবে কাজ করে। নিচে ই-পাসপোর্ট সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো।
পুরনো এমআরপি ভিসার মেয়াদ শেষ হলে এখন যে কেউ এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে পাঁচ বছর এবং দশ বছর মেয়াদি এই ভিসা প্রদান করা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। একইভাবে এ পাসপোর্ট চালুর ক্ষেত্রে বিশ্বে ১১৯তম দেশ। বর্তমানে ৬ মাসের বেশি মেয়াদ থাকা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি পাসপোর্ট যাদের আছে তাদের এই পাসপোর্ট দেওয়া হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা নতুন করে আবেদনকারীদের দেওয়া হবে ই-পাসপোর্ট।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের ৫ ও ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। পাসপোর্ট অফিসের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে অনলাইনে (ভিসা কার্ড, কিউ-ক্যাশ, বিকাশ) পেমেন্টের পাশাপাশি ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ও ঢাকা ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া যাবে।

আসুন এবার আমরা জেনে নিই এ পাসপোর্ট পেতে কত টাকা এবং কত সময় লাগবে। আপনি চাইলে ৪৮ পাতা বা ৬৪ পাতার জন্য এ পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। তবে তার জন্য আলাদা ফি প্রদান করতে হবে।
| মেয়াদ | পৃষ্ঠা | ১৫ দিনে পেতে | ৭ দিনে পেতে | ২ দিনে পেতে |
|---|---|---|---|---|
| ৫ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৫ বছর | ৬৪ পৃষ্ঠা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ১০ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ১০ বছর | ৬৪ পৃষ্ঠা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
এই পাসপোর্ট বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সহজ এবং নিরাপদ করেছে। এটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকদের সেবা প্রদানে সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হয়। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া সহজ এবং অনলাইনে করা যায়। নিচে বিস্তারিত প্রক্রিয়া দেওয়া হলো:
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস প্রস্তুত রাখতে হবে:
আপনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিসের এই লিঙ্ক থেকে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া, তবে বিস্তারিত বা যদি কোন পরিবর্তন থাকে, সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইট বা কাছের পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা ভালো।
ই-পাসপোর্ট (e-passport) হচ্ছে একটি আধুনিক ও নিরাপদ ধরনের পাসপোর্ট, যা বায়োমেট্রিক তথ্যসহ একটি ইলেকট্রনিক চিপ দ্বারা সজ্জিত থাকে। এই চিপে ব্যক্তির ছবিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন:
বাংলাদেশ ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালু করেছে এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। এখন নতুন পাসপোর্ট আবেদনকারীরা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন।
]]>